ছোটবেলার ঈদ, অকৃত্রিম ভালোবাসা আর কৃত্রিমতার জগত

Published
ছোটবেলার ঈদ, অকৃত্রিম ভালোবাসা আর কৃত্রিমতার জগত – cover image- Md Salehin Islam's blog

ছোটোবেলাতে ঈদের সময় দাদি বাড়ি, নানি বাড়ি যেতাম। আমার আব্বু বংশের মধ্যে সব থেকে বড়। এজন্য আমি জন্মের পর বেশিরভাগ কাকা এবং ফুফুর বিয়ে হয় নি, অনেকেই বলা যেত বেকার। আর ছোট বাচ্চা হিসেবে আমার আদরের কোনো কমতি ছিল না। সেই আদর ভালোবাসার মাঝে কোনো কৃত্রিমতা ছিল না। নিরেট ভালবাসা যাকে বলে। জাগতিক ব্যাস্ততার আচ পর্যন্ত আসত না।খুব ভাল লাগত।


নানি বাড়িতেও একই অবস্থা। তবে সেখানে আমার সামান্য ছোট বয়সের মামাত ভাই ছিল। নানার নিজের পুকুর। সেই পুকুরে আমরা আগে গোসল করতাম। নানি বাড়ির বেশ কিছু বিশেষত্ব ছিল। বাড়ির পাশেই নানার নিজের একটা সহ মোট ৩ টা পুকুর থাকত। সুন্দর মত গোসল করতে পারতাম। ভাগের পুকুর থেকে মাছ পাওয়া যেত। নিজেও বরশি দিয়ে মাছ ধরেছি, আর সেই মাছ ভাজিও খাইছি। নানাদের বিশাল বিশাল বাড়ি, উঠানেই অনেক গাছ। বেশ শান্ত, চুপচাপ ছিল। আরাম করে প্রকৃতির কাছে থাকতে পারতাম। সত্যি বলছি বাড়ির বড় ছেলে হওয়াই আদর আর ভালবাসা একটু বেশিই পাইছি। তখন কার সেই আদর ভালোবাসা কেন যেন আমি একাই পেতাম, এবং সেটা থাকত অকৃত্রিম, কেন যেন জাগতিক জটিলতা, ব্যাস্ততা ওই সময় গুলোতে আমাকে ছুতে পারে নাই। এটাই আমার স্বভাব খারাপ করে দিছে। আমি এখানো সেগুলোকে মিস করি। আমি একটা জিনিস বড্ড চাই, সেটা হল এমন একজন মানুষ যেন আমার জীবনে থাকুক যে আমাকে অকৃত্রিম ভাবে ভালবাসতে পারবে, আর জাগতিক কোনো ব্যস্ততা তাকে ছুতে পারবে না। কিন্তু আমি ভেবে দেখলাম হয়ত সেটা সম্ভব না। অদৃশ্য কোনো শক্তি যেন সবাইকে কৃত্রিমতার চাদরে ঢেকে দিচ্ছে।


আমি না ঈদ হলেই ঝাপিয়ে পড়তাম বাড়িতে যাবার জন্য। বাড়ি থেকে আসার পর কয়েকদিন ধরে কাদতাম। কিছু ভালো লাগত না।


আস্তে আস্তে সেই বেকার, অবিবাহিত মানুষগুলো চাকরি করে বিয়ে করে ঘর সংসার করছে। এটাই হওয়া উচিত। জাগতিক সকল কৃত্রিমতা তাদেরকে আষ্টেপৃষ্টে বেধে রেখেছে। আমিও কেমন যেন হারিয়ে গেলাম কৃত্রিমতার জগতে। কিছুটা ব্যস্ত হয়ে পড়লাম জগত সংসারের কাজ কর্ম নিয়ে। যত ব্যাস্ততাই থাকুক কিছুটা সময় অবসর পাই। কিন্তু এই আমি গ্রামের বাড়িতে যেতে চাই না। আমাকে কেন যেন টানে না। মনে হয় দুই জায়গায় মানুষ জন জগত সংসার নিয়ে ব্যস্ত।


Back to Blog